সিরাহর মানুষেরা
পরিবার, উম্মাহাতুল মু'মিনীন ও সাহাবায়ে কেরাম। প্রত্যেকের পাতায় তাঁর সাথে জড়িত ঘটনাগুলো পাবেন। সাহাবীদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী ধীরে ধীরে যোগ হবে।
পরিবার
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব
পিতারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পিতা। পুত্রের জন্মের আগেই মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
আমিনা বিনতে ওয়াহাব
মারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মা। তাঁর ছয় বছর বয়সে আবওয়ায় ইন্তেকাল করেন।
আব্দুল মুত্তালিব
দাদারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দাদা, বনু হাশিমের নেতা। মায়ের ইন্তেকালের পর দুই বছর নাতির লালনপালন করেন।
আবু তালিব
চাচা ও অভিভাবকরাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা ও অভিভাবক। কুরাইশদের চাপের মুখেও আজীবন তাঁকে রক্ষা করেন। নবুওয়াতের দশম বছরে ইন্তেকাল করেন।
হালিমা সা'দিয়া (রা.)
দুধমাবনু সা'দ গোত্রের দুধমা, যাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শৈশবের কয়েক বছর কাটে।
হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)
চাচারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা, ‘আসাদুল্লাহ’ (আল্লাহর সিংহ) উপাধিতে পরিচিত। নবুওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন, উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন।
আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)
চাচারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা। আকাবার দ্বিতীয় বাইআতে ভাতিজার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। হুনাইনে তাঁর উচ্চকণ্ঠের আহ্বানে সাহাবীরা আবার একত্র হন।
ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ (রা.)
কন্যারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা, আলী (রা.)-এর স্ত্রী এবং হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর মা। তাঁকে জান্নাতের নারীদের নেত্রী বলা হয়েছে।
যায়নাব বিনতে মুহাম্মাদ (রা.)
জ্যেষ্ঠ কন্যারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা। হিজরতের পর মক্কা থেকে মদিনায় আসেন।
রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মাদ (রা.)
কন্যারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা ও উসমান (রা.)-এর স্ত্রী। স্বামীর সাথে হাবশায় হিজরত করেন। বদর যুদ্ধের সময় মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মাদ (রা.)
কন্যারাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা। বোন রুকাইয়া (রা.)-এর ইন্তেকালের পর উসমান (রা.)-এর সাথে তাঁর বিবাহ হয়।
হাসান ইবনে আলী (রা.)
নাতিফাতিমা ও আলী (রা.)-এর পুত্র, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয় নাতি।
হুসাইন ইবনে আলী (রা.)
নাতিফাতিমা ও আলী (রা.)-এর পুত্র, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয় নাতি।
উম্মাহাতুল মু'মিনীন
খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)
প্রথম স্ত্রীরাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রথম স্ত্রী এবং সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। নবুওয়াতের কঠিন দিনগুলোতে জান ও মাল দিয়ে পাশে ছিলেন।
সাওদা বিনতে যাম'আ (রা.)
খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর সাথে বিবাহ হয়। প্রথম দিকের মুসলিম, হাবশায় হিজরতকারীদের একজন।
আয়েশা বিনতে আবী বকর (রা.)
আবু বকর (রা.)-এর কন্যা। হাদিস ও ফিকহে অগ্রগণ্য, সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারীদের একজন। তাঁর ঘরেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাত হয়।
হাফসা বিনতে উমর (রা.)
উমর (রা.)-এর কন্যা। আবু বকর (রা.)-এর সময় সংকলিত কুরআনের লিখিত কপি তাঁর কাছে সংরক্ষিত ছিল।
যায়নাব বিনতে খুযাইমা (রা.)
দরিদ্রদের প্রতি দয়ার জন্য ‘উম্মুল মাসাকীন’ নামে পরিচিত। বিবাহের অল্প কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন।
উম্মে সালামা (রা.)
হাবশা ও মদিনা, দুই হিজরতেই অংশ নেন। হুদায়বিয়ায় তাঁর পরামর্শ প্রসিদ্ধ।
যায়নাব বিনতে জাহাশ (রা.)
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ফুফাতো বোন। তাঁর বিবাহ সম্পর্কে কুরআনে আয়াত নাযিল হয়। দানশীলতার জন্য প্রসিদ্ধ।
জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রা.)
বনু মুস্তালিক গোত্রপ্রধানের কন্যা। তাঁর বিবাহের সম্মানে সাহাবীরা বনু মুস্তালিকের বহু বন্দীকে মুক্ত করে দেন।
উম্মে হাবীবা রামলা বিনতে আবী সুফিয়ান (রা.)
হাবশায় হিজরতকারী। সেখানে থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তাঁর বিবাহ হয়।
সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা.)
বনু নাযীর নেতার কন্যা। খায়বার বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন ও বিবাহ হয়।
মাইমুনা বিনতে হারিস (রা.)
৭ হিজরিতে উমরাতুল কাযার সময় বিবাহ হয়। উম্মাহাতুল মু'মিনীনের মধ্যে সর্বশেষ বিবাহিতা।
আশারায়ে মুবাশশারা: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন
আবু বকর সিদ্দীক (রা.)
হিজরতের সঙ্গী, প্রথম খলিফাপ্রথম দিকের মুসলিমদের অন্যতম, হিজরতের সঙ্গী এবং ইসলামের প্রথম খলিফা। ইসরার ঘটনা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করায় ‘সিদ্দীক’ উপাধি পান।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
দ্বিতীয় খলিফানবুওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাঁর ইসলামে মুসলিমরা শক্তি পান। ‘ফারূক’ উপাধিপ্রাপ্ত। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা, তাঁর সময়েই হিজরি সাল গণনা চালু হয়।
উসমান ইবনে আফফান (রা.)
তৃতীয় খলিফাপ্রথম দিকের মুসলিম। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দুই কন্যাকে বিবাহ করায় ‘যুন নূরাইন’ উপাধি পান। হাবশায় হিজরত করেন, হুদায়বিয়ায় দূত হিসেবে মক্কায় যান, তাবুকে বিপুল দান করেন। ইসলামের তৃতীয় খলিফা।
আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)
চাচাতো ভাই ও জামাতা, চতুর্থ খলিফাশৈশবেই ইসলাম গ্রহণ করেন। হিজরতের রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিছানায় শুয়ে ছিলেন। ফাতিমা (রা.)-এর স্বামী, ইসলামের চতুর্থ খলিফা।
তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.)
প্রথম দিকের মুসলিম। উহুদে নিজের হাত দিয়ে তীর ঠেকিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে রক্ষা করেন, তাঁর হাত অবশ হয়ে যায়।
যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)
ফুফাতো ভাইরাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ফুফাতো ভাই। খন্দকের সময় তাঁকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ‘হাওয়ারী’ (বিশেষ সাহায্যকারী) বলা হয়।
আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)
মদিনায় ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের পর আনসারী ভাইয়ের সম্পদ না নিয়ে বাজারের পথ চেয়ে নেন। পরে ব্যবসা করে সম্পদশালী হন এবং অঢেল দান করেন।
সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.)
প্রথম দিকের মুসলিম, আল্লাহর পথে প্রথম তীর নিক্ষেপকারী। উহুদে দক্ষ তীরন্দাজ হিসেবে প্রসিদ্ধ।
সাঈদ ইবনে যায়দ (রা.)
প্রথম দিকের মুসলিম। উমর (রা.)-এর বোন ফাতিমা (রা.)-এর স্বামী।
আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে এই উম্মতের ‘আমীন’ (বিশ্বস্ত) বলেছেন। উহুদে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখে বিঁধে যাওয়া শিরস্ত্রাণের কড়া দাঁত দিয়ে টেনে তোলেন।
সাহাবায়ে কেরাম
বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)
প্রথম মুয়াযযিনমক্কায় কঠোর নির্যাতনেও ‘আহাদ, আহাদ’ বলতে থাকেন। আবু বকর (রা.) তাঁকে মুক্ত করেন। ইসলামের প্রথম মুয়াযযিন, মক্কা বিজয়ের দিন কাবার ছাদে আযান দেন।
যায়দ ইবনে হারিসা (রা.)
পালকপুত্ররাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পালকপুত্র, কুরআনে নাম উল্লেখিত একমাত্র সাহাবী। তায়েফ সফরের সঙ্গী, মুতার যুদ্ধে সেনাপতি হিসেবে শহীদ হন।
জাফর ইবনে আবী তালিব (রা.)
চাচাতো ভাইহাবশায় হিজরতকারীদের নেতৃত্ব দেন এবং নাজাশীর দরবারে মুসলিমদের পক্ষে বক্তব্য দেন। মুতার যুদ্ধে শহীদ হন।
মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)
মদিনায় প্রথম দূতআকাবার প্রথম বাইআতের পর ইসলামের দূত ও শিক্ষক হিসেবে মদিনায় প্রেরিত হন। উহুদে পতাকাবাহী অবস্থায় শহীদ হন।
খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা.)
সাইফুল্লাহউহুদে কুরাইশদের অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। হুদায়বিয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেন। মুতায় বাহিনীকে রক্ষা করে ফিরিয়ে আনেন, ‘সাইফুল্লাহ’ (আল্লাহর তলোয়ার) উপাধি পান।
আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)
মা সুমাইয়া ও বাবা ইয়াসির (রা.)-সহ মক্কায় কঠোর নির্যাতনের শিকার হন। মসজিদে নববী নির্মাণে অংশ নেন।
সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত (রা.)
ইসলামের প্রথম শহীদআম্মার (রা.)-এর মা। মক্কায় নির্যাতনের মধ্যে শহীদ হন, ইসলামের প্রথম শহীদ।
সালমান ফারসী (রা.)
পারস্য থেকে সত্যের খোঁজে বহু পথ ঘুরে মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের পরামর্শ দেন।
সা'দ ইবনে মুআয (রা.)
আওস গোত্রের নেতামুসআব (রা.)-এর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাঁর সাথে পুরো গোত্র মুসলিম হয়। বদরে আনসারদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। খন্দকে আহত হয়ে পরে শহীদ হন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)
প্রথম দিকের মুসলিম। মক্কায় প্রকাশ্যে কুরআন তিলাওয়াতকারীদের অন্যতম। কুরআন ও ফিকহে অগ্রগণ্য সাহাবী।
আবু হুরাইরা (রা.)
খায়বার অভিযানের সময় মদিনায় আসেন। সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী।
মুআয ইবনে জাবাল (রা.)
আকাবার দ্বিতীয় বাইআতে অংশ নেন। হালাল-হারামের জ্ঞানে অগ্রগণ্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ইয়ামানে শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে পাঠান।
আবু যর গিফারী (রা.)
প্রথম দিকের মুসলিমদের একজন। সরলতা, সত্যবাদিতা ও দুনিয়াবিমুখতার জন্য প্রসিদ্ধ।
আনাস ইবনে মালিক (রা.)
শৈশব থেকে দশ বছর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খাদেম ছিলেন। অন্যতম প্রধান হাদিস বর্ণনাকারী।
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)
আনসারী কবি সাহাবী। মুতার যুদ্ধে তৃতীয় সেনাপতি হিসেবে শহীদ হন।
আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রা.)
উহুদ ও খন্দকে কুরাইশদের নেতৃত্ব দেন। মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন।
আসমা বিনতে আবী বকর (রা.)
হিজরতের সময় সাওর গুহায় খাবার পৌঁছে দিতেন। কোমরবন্ধ ছিঁড়ে খাবারের পুঁটলি বাঁধায় ‘যাতুন নিতাকাইন’ উপাধি পান।
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর (রা.)
হিজরতের সময় দিনে মক্কায় থেকে কুরাইশদের খবর সংগ্রহ করতেন এবং রাতে সাওর গুহায় পৌঁছে দিতেন।
আমির ইবনে ফুহাইরা (রা.)
আবু বকর (রা.)-এর মুক্ত করা গোলাম। হিজরতের সময় সাওর গুহার কাছে ছাগল চরিয়ে দুধ দিতেন এবং পায়ের চিহ্ন মুছে দিতেন।
সুরাকা ইবনে মালিক (রা.)
পুরস্কারের আশায় হিজরতের পথে পিছু নিয়েছিলেন, কিন্তু বারবার ঘোড়ার পা মাটিতে দেবে যায়। পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।
কা'ব ইবনে মালিক (রা.)
আনসারী কবি সাহাবী। তাবুক অভিযানে না যাওয়ার পর সত্য স্বীকার করেন, দীর্ঘ পরীক্ষার পর কুরআনে তাঁর তাওবা কবুলের ঘোষণা আসে।
অন্যান্য
নাজাশী আসহামা (রহ.)
হাবশার বাদশাহহাবশার ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ। মক্কা থেকে আসা মুসলিমদের আশ্রয় দেন, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইন্তেকালে রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েবানা জানাযা পড়েন।
ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল
খাদিজা (রা.)-এর চাচাতো ভাইপূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞানী। প্রথম ওহীর পর খাদিজা (রা.) তাঁর কাছে নিয়ে গেলে তিনি একে মূসা (আ.)-এর কাছে আসা সেই বার্তাবাহক বলে চিনতে পারেন।
আবু জাহল
বিরোধী নেতামক্কায় ইসলামের কঠোরতম বিরোধীদের একজন, মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের নেতৃত্ব দেয়। বদর যুদ্ধে নিহত হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে উরাইকিত
হিজরতের পথপ্রদর্শকহিজরতের পথ দেখানোর জন্য ভাড়া করা দক্ষ পথপ্রদর্শক। তখনো তিনি মুসলিম ছিলেন না, তবে বিশ্বস্ত ছিলেন।