যুদ্ধ ও অভিযান
মদিনার দশ বছরে সংঘটিত প্রধান যুদ্ধ ও অভিযান। এখানে ১২টি গাযওয়া (যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে ছিলেন) ও প্রেরিত বাহিনীর বড় অভিযানগুলো রয়েছে।
বাহিনীর আকার, চোখের সামনে
প্রতিটি বিন্দু ১০০ জন। প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী আনুমানিক সংখ্যা। যে যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই, সেখানে শুধু মুসলিম বাহিনী দেখানো হয়েছে।
১৭ রমজান, ২ হিজরি | ৬২৪ খ্রি.
বদর যুদ্ধ
নির্ভরযোগ্য সংখ্যা জানা নেই।
ফলাফল: মুসলিমদের বিজয়। কুরাইশদের ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দী হয়।
প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী মুসলিম ৩১৩ জনের কিছু বেশি, কুরাইশ প্রায় ৯৫০ থেকে ১০০০ জন।
সময়ের ক্রমে
- ১৭ রমজান, ২ হিজরি৬২৪ খ্রি.
বদর যুদ্ধ
মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে প্রথম বড় যুদ্ধ। সংখ্যায় অনেক কম হয়েও মুসলিমরা বিজয় লাভ করেন। কুরআনে দিনটিকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বলা হয়েছে।
গাযওয়া বদর
- শাওয়াল, ২ হিজরি৬২৪ খ্রি.
বনু কাইনুকা অভিযান
বদরের পর মদিনার ইহুদি গোত্র বনু কাইনুকা চুক্তি ভঙ্গ করলে তাদের অবরোধ করা হয়। শেষে তারা মদিনা ছেড়ে চলে যায়।
গাযওয়া মদিনা
- শাওয়াল, ৩ হিজরি৬২৫ খ্রি.
উহুদ যুদ্ধ
মদিনার উপকণ্ঠে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে যুদ্ধ। তীরন্দাজদের একাংশ অবস্থান ছেড়ে দেওয়ায় মুসলিমরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। হামযা (রা.) ও মুসআব (রা.) এই যুদ্ধে শহীদ হন।
গাযওয়া উহুদ পাহাড়
- রবিউল আউয়াল, ৪ হিজরি৬২৫ খ্রি.
বনু নাযীর অভিযান
মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাযীর রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে তাদের অবরোধ করা হয়। পরে তারা মদিনা ছেড়ে খায়বারসহ বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।
গাযওয়া মদিনা
- শাবান, ৫ হিজরি৬২৭ খ্রি.
বনু মুস্তালিক অভিযান
মুরাইসি নামক কূপের কাছে বনু মুস্তালিকের বিরুদ্ধে অভিযান। এ সফর থেকে ফেরার পথে আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে অপবাদের ঘটনা ঘটে, পরে কুরআনে তাঁর নির্দোষিতা ঘোষিত হয়।
গাযওয়া
- শাওয়াল, ৫ হিজরি৬২৭ খ্রি.
খন্দকের যুদ্ধ
বহু গোত্রের সম্মিলিত বাহিনী (আহযাব) মদিনা আক্রমণ করতে এলে সালমান ফারসী (রা.)-এর পরামর্শে শহরের খোলা দিকে পরিখা খনন করা হয়। দীর্ঘ অবরোধের পর প্রবল ঝড়ো বাতাসে শত্রুবাহিনী ফিরে যায়।
গাযওয়া খন্দক (পরিখা)
- যিলকদ, ৫ হিজরি৬২৭ খ্রি.
বনু কুরাইযা অভিযান
খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনার ইহুদি গোত্র বনু কুরাইযা চুক্তি ভঙ্গ করে শত্রুপক্ষে যোগ দেয়। যুদ্ধের পরপরই তাদের অবরোধ করা হয়।
গাযওয়া মদিনা
- মুহাররম, ৭ হিজরি৬২৮ খ্রি.
খায়বার বিজয়
মদিনার উত্তরে খায়বারের সুরক্ষিত দুর্গগুলো জয় করা হয়। আলী (রা.)-এর হাতে পতাকা তুলে দেওয়ার প্রসিদ্ধ ঘটনা এই অভিযানের।
গাযওয়া খায়বার
- জুমাদাল উলা, ৮ হিজরি৬২৯ খ্রি.
মুতার যুদ্ধ
শামের সীমান্তে রোমান ও তাদের মিত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রেরিত বাহিনী। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে এতে ছিলেন না। যায়দ, জাফর ও আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) একে একে শহীদ হন।
সারিয়্যা মুতা
- রমজান, ৮ হিজরি৬৩০ খ্রি.
মক্কা বিজয়
কুরাইশরা সন্ধি ভঙ্গ করলে দশ হাজার সাহাবী নিয়ে মক্কায় প্রবেশ। প্রায় রক্তপাতহীন এই বিজয়ের পর তিনি মক্কাবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং কাবাকে মূর্তিমুক্ত করেন। বিলাল (রা.) কাবার ছাদে আযান দেন।
গাযওয়া মক্কা
- শাওয়াল, ৮ হিজরি৬৩০ খ্রি.
হুনাইনের যুদ্ধ
মক্কা বিজয়ের পরপরই হাওয়াযিন ও সাকীফ গোত্রের সাথে হুনাইন উপত্যকায় যুদ্ধ। সংখ্যার আধিক্যে আত্মতৃপ্তির পর শুরুতে বিপর্যয় ঘটে, পরে মুসলিমরা বিজয়ী হন।
গাযওয়া হুনাইন উপত্যকা
- শাওয়াল, ৮ হিজরি৬৩০ খ্রি.
তায়েফ অবরোধ
হুনাইনের পর পালিয়ে যাওয়া সাকীফ গোত্রকে তায়েফে অবরোধ করা হয়। কয়েক সপ্তাহ পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
গাযওয়া তায়েফ
- রজব, ৯ হিজরি৬৩০ খ্রি.
তাবুক অভিযান
প্রচণ্ড গরম ও অভাবের সময় রোমান বাহিনীর মোকাবিলায় উত্তরে তাবুক পর্যন্ত অভিযান। উসমান (রা.) এ অভিযানে বিপুল দান করেন। এটি তাঁর জীবনের শেষ সামরিক অভিযান।
গাযওয়া তাবুক
গাযওয়া (রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে অংশ নেন)। সারিয়্যা (প্রেরিত বাহিনী)।